মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত নানা ধরনের চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আলোচিত একটি চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।একাত্তরের রণাঙ্গণের বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে তৈরি হয়েছে একই নামে একটি মোবাইল গেম। মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশকে দেশকে যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল, সেই পটভূমি নিয়েই তৈরি করা হয়েছে গেমটি। যিনি এ গেমটি খেলবেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করবেন পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। আর গেমের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ করে শত্রুমুক্ত করতে হবে দেশ। ওড়াতে হবে লাল-সবুজ পতাকা।

গেমটি যেহেতু সত্য ঘটনা অবলম্বন করে করা তাই গেমের প্রতিটি ধাপে ধাপে রয়েছে উত্তেজনা। লড়াকু মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে প্রতিপক্ষের ভারী মারণাস্ত্রের। অস্ত্র নয়, বুদ্ধি আর কৌশল দিয়েই জয় করতে হবে এই ফার্স্ট পারসন শুটার গেমটি।
বর্তমানে গেমটির প্রথম পর্বের পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু রয়েছে। গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্যাবিলন রিসোর্সেস। আগামী বছর গেমের সবগুলো পর্ব গুলো চালু হবে বলে জানা গেছে।

ইউনিনিটি (২০১৭.১) গেম ইঞ্জিনে ডেভেলপ করা হয়েছে গেমটি। এটি তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে সি শার্প, জাভা স্ক্রিপ্ট ও ভ্যু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। গেমের অলঙ্করণ ও নকশায় ব্যবহার হয়েছে মায়া (২০১৬), মাড বক্স, অ্যাডোবি ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গেমের স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছে। কাল্পনিক চরিত্রে খেলা হলেও গেমের স্থান, কাল ও পাত্র বাস্তবতার নিরিখেই তৈরি করা হয়েছে।

গেমের প্রতিটি ধাপে ধাপে রয়েছে উত্তেজনা

যুদ্ধ করার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। জেলাভিত্তিক ভৌগলিক মানচিত্রে ভাগ করে এই সেক্টরের একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে খেলতে হবে ‘ওরা ১১ জন’ গেমটি।

গেমের প্রথম পর্ব তৈরি হয়েছে ২ নম্বর সেক্টরের ওপর। ঢাকা, ফরিদপুরের কিছু অংশ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেক্টর ২। ১ জুন থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি ফেনীর বিলোনিয়ায় সংঘটিত যুদ্ধে অংশ নিতে পারবেন গেমার। ‘ওরা ১১ জনে’র এই পর্বে যুদ্ধকালীন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার ছায়া চরিত্রের সঙ্গে খেলতে হবে গেমারকে।

গেমটি খেলার জন্য অন্তত ৪.৪ ভার্সনের অ্যান্ড্রয়েড থাকতে হবে। র‌্যাম থাকতে হবে ২ জিবি। তবে ভিয়ার গিয়ার দিয়ে খেলতে হলে ১ জিবি র‌্যাম থাকলেও চলবে। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড় যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে এগিয়ে যাবেন এবং অটো ফায়ার হবে।